সর্বশেষ সংবাদ

5/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

১৪ কিলোমিটারের 'মরণফাঁদ' মাদারীপুরের ইটেরপুল-ঘোষেরহাট আঞ্চলিক সড়ক

মাদারীপুরের ইটেরপুল-ঘোষেরহাট আঞ্চলিক সড়কের ১৪ কিলোমিটার মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অথচ সামনে বর্ষা মৌসুম। আসছে ঈদুল ফিতরও। এ অবস্থায় দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে চরম দুর্ভোগের শিকার হবে সাধারণ মানুষ।

জানা যায়, ইটেরপুল-ঘোষেরহাট আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সদর ও কালকিনি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। এ সড়ক দিয়ে জেলা শহরের ইটেরপুল থেকে ঘোষেরহাট যেতে ৩০ মিনিট লাগার কথা; কিন্তু ১৪ কিলোমিটার যেতে এখন সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। গত দুই বছরে সড়কটি সংস্কারে এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু দায়সারাভাবে সংস্কার করায় কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
সড়কটির বেশির ভাগ স্থানে পিচ উঠে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আর গর্তগুলোতে প্রায়ই যানবাহন আটকে বিকল হয়ে যাচ্ছে, ঘটছে দুর্ঘটনাও। স্থানীয় লোকজন সংস্কারের সময় নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুললেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি।
সড়কটিতে নিয়মিত যাতায়াতকারী আবু আলম মুন্সি বলেন, ‘প্রায়ই দেখি সড়ক মেরামত করে। কাজ ঠিকমতো না হওয়ায় সড়কে আবারও একই চিত্র দেখা যায়। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হয় আমাদের। এর প্রতিকার হওয়া দরকার।’
ইটেরপুল এলাকার আল-আমিন বেপারী বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে রোগী নিয়ে যেতে হলে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হতে হয়।’
ইজি বাইক চালক নুর আলম বলেন, ‘সড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচলে খুব সমস্যা হয়। এ সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজ না করায় সড়কটিতে খানাখন্দ লেগেই থাকে। দেখা যায় সড়ক মেরামত করছে আবার সেই সড়কে একবার বৃষ্টির ছোঁয়া লাগলেই খানাখন্দ। এর দায়ভার কাদের?’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক বলেন, ‘দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে কোনো ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করতে পারে না। দেশপ্রেম ও দায়বদ্ধতা নেই বলেই আজ আমাদের এ দুর্দশা। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য চাহিদা অনুযায়ী সরকার অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। দুর্নীতির কারণে প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে। যারা দেখভাল করবে তাদেরও আছে স্বচ্ছতার অভাব।’
জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হয়—এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে দেখব। পরবর্তী সময়ে কেউ যাতে কাজে ফাঁকি দিতে না পারে এ ব্যাপারে সড়ক বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ 
অন্যদিকে জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পুরো সড়কের মেরামতকাজ শিগগিরই শুরু হবে। এতে কমবে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি। নতুন করে সড়কটি সংস্কারের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা। দরপত্র ডাকা হয়েছে, গুণগত মান ঠিক করে সড়ক সংস্কার করা হবে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সজাগ আছে।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ