সর্বশেষ সংবাদ

5/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মাদারীপুরে সৎ মায়ের গরম খুন্তির ছ্যাঁকায় কন্যাশিশু দগ্ধ, সৎ মা ও ভাই আটক

মাদারীপুরে এক সৎ মায়ের অমানবিক ও মর্মষ্পর্শী নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী সেতু আক্তার (১৩)। সৎ মায়ের গরম খুন্তির ছ্যাঁকায় দগদগে ঘা অবস্থায় রবিবার তাকে উদ্ধার করেছে মানবাধিকার কর্মী মমতা খাতুন। খবর পেয়ে পুলিশ রবিবার সৎ মা সাবিনা ও সৎ ভাই সাব্বিরকে আটক করেছে। এ মর্মস্পর্শী ও অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের পান্থাপাড়া গ্রামে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের পান্তাপাড়া গ্রামের রিয়াজ শিকদারের প্রথম স্ত্রী রেহানা বেগম ৩ ছেলে-মেয়ে রেখে প্রায় ৯ বছর আগে মা মারা যায়। প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকতেই রিয়াজ শিকদার সাবিনা নামের এক মহিলাকে বিয়ে করে। এই বিয়ের পরেই সেতু ও তার ভাই-বোনের ওপর স্টিমরোলার চালাতে থাকে তার সৎ মা সাবিনা।
সৎ মা সাবিনা কারণে অকারণে প্রতিদিন বিভিন্ন অজুহাতে নির্যাতন চালাতে থাকে তাদের ওপর। বাবা রিয়াজ শিকদার এসবের খেয়াল রাখতো না। সে ঘুম থেকে উঠে সকালে পান্থাপাড়া বাজারে ভাঙ্গারীর দোকানে চলে যেত আর বাড়ি ফিরে আসতো অনেক রাতে। গত ২৪ মার্চ রাতে সামান্য কারণে ছোট্ট এই শিশুটির শরীরের ঘাড়, কনুই, হাতসহ ১৩টি স্থানে গরম খুন্তির ছ্যাকা দিয়ে দগ্ধ করে সৎ মা সাবিনা। শিশু সেতু তার ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। এমনকি তার বাবাকেও জানায়নি। শরীরে দগদগে ঘা নিয়ে গত এক সপ্তাহ স্কুল বন্ধ দিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। কিন্তু বিধিবাম! চোখ এড়ায়নি এলাকাবাসীর। শিশুটির সারা শরীরের খুন্তির ছ্যাকা দেখে আতকে ওঠে প্রতিবেশিরা। প্রতিবাদ জানায় এলাকার নারী-পুরুষ, শিশু ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা। এ খবর পেয়ে এলাকার মানবাধিকার কর্মী মমতা খাতুন রবিবার (৩১মার্চ) সকালে সেতুকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা বাজারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এরই মধ্যে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে শিশু সেতুর সৎ মা সাবিনা বেগম ও সৎ ভাই সাব্বিরকে আটক করে।
ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী নির্যাতিতা সেতু বলে, ‘প্রায় ৯ বছর পুর্বে আমার মা রেহানা বেগম মারা যায়। মা জীবিত থাকতেই বাবা পুনরায় সাবিনা বেগমকে বিয়ে করেন। এরপরেই আমাদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খর্গ। এ ঘরে ১ভাই ও এক বোন রয়েছে। সৎ ভাই সাব্বির ও সৎ নানীর প্ররোচনায় সৎ মা সাবিনা গরম খুন্তি দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাকা দেয়। আমি যন্ত্রনায় চিৎকার করলেও তাদের কোন মায়া হয়নি। এ সময় সৎ ভাই আমার হাত চেপে ধরে। আমাকে চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়নি। আমি কারো কাছে অভিযোগ করলে আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। এ ভয়ে কাউকেই জানাইনি।’
রাজৈর থানার এসআই খান মোঃ জোবায়ের বলেন, ‘খবর পেয়ে আজ রবিবার ঘটনা স্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করি এবং সৎ ভাই সাব্বির ও সৎ মা সাবিনাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। এসময় রাজৈর মহিলা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি মোমেনা বেগম, মানবাধিকার কর্মী মমতা খাতুন ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।’
এ ব্যাপারে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহানা নাসরিন বলেন, ‘মেয়েটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিশুটিকে পরিবারের কাছে না দিয়ে পুনর্বাসনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সতর্কবাণীঃ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ